স্বপ্নচারি
মুহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ
আমি যদি পরিচিত হই আঁধার গুহায়
চিনবো তোমায় রাতের ভীড়ে ফুলের ছোঁয়ায়
সবুজ ধানের ক্ষেতের পাশে তমাল ছায়ায়
আমি যদি কাছে আসি কুঞ্জছায়ায়।
আমি যদি ভালোবাসি তোমার আঁখি
কাজল জলে উড়তে থাকা হরিৎ পাখি
এক নিমিষে কাছে এসে ভালোবেসে
বলতে যদি উদাস হƒদয় ভরবে সখি।
আমি যদি দেখি আবার মুক্ত আকাশ
মুক্ত মনের মুক্ত কথার মুক্ত প্রকাশ
রাত দুপুরে স্বাধীন ভাবে দুয়ার খুলে
আসবে যদি আমার ঘরে মুক্ত বাতাস।
আমি যদি উঠতে পারি পাহাড় চুড়ায়
দেখবো তখন অনেক দূরে দুঃখের পাড়ায়
ঘুম পরীরা জেগে আছে রাতের ভীড়ে
বন্দীখানার শিকল ভেঙ্গে বাঁচার আশায়।
আমি যদি সাঁতার কাটি সাগর জলে
¯্রােতের সাথে জেলের সাথে ঢেউয়ের তালে
হাঙর কুমির অক্টোপাসের শিকল ছিড়ে
স্বাধীন সাগর পাড়ি দিবো ছন্দ তালে।
আমি যদি হাঁটতে থাকি সবুজ গাঁয়ে
খুঁজবো তথায় সহজ পথটা ডানে বায়ে
সহজ কথায় মিষ্টি মনের মিষ্টি হাসি
ভরবো আমি দুঃখের জীবন হাসি দিয়ে।
আমি যদি খুঁজে দেখি ধানের ক্ষেতে
লাঙল জোয়াল মইয়ের সাথে ফিঙে নাচে
আলের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষক দেবি
মাঠে তাহার সোনার বরণ ঘোমটা নাচে।
আমি যদি খুব সকালে জেগে উঠি
পাখির সাথে জমবে আমার ভালো জুটি
বুলবুলিদের মিষ্টি গানের সুরে সুরে
অলসপুরের দুষ্টুমিদের হবে ছুটি।
আমি যদি ঘুরে দেখি ফুলের বাগান
হাসনাহেনা রক্তজবা পুষ্প দুখান
পলাশ বেলি কামিনী আর কনকচাঁপা
উদাস মনে ডাকছে তারা প্রেমিক সমান।
আমি যখন ছুঁয়ে দেখি মধুর চাকে
মৌমাছিরা স্বপ্ন ভাঙার ভয়ে থাকে
একসাথে ঐ আসছে তারা আক্রমনে
আমি তখন ছুটে বাঁচি গাঁয়ের বাঁকে।
আমি যখন সাঁতার কাটি মাছের সাথে
গহীন জলের স্বপ্ন আমার থাকে সাথে
সাগর থেকে মহাসাগর ঘুরে ঘুরে
জলের জগৎ আপন করে নিচ্ছি কাছে।
আমি যদি গাছের নিচে ঘুমিয়ে পড়ি
সবুজ ছায়া ক্লান্তি আমার নিবে খসি
দূরের পথিক হাঁটবে আবার খানিক বসে
মাঠের শেষে নতুন পথের সন্ধান করি।
আমি যখন ঘুরে দেখি গহীন বনে
গাছেরা সব কথা বলে গাছের সনে
উজাড় করা বনবনা নীর গল্পগুলি
কষ্ট হয়ে বাজে তাদের সরল কানে।
আমি যখন হেঁটে চলি শীতের রাতে
শিশির ভেঁজা পাঁপড়িগুলো ফুলের সাজে
সুখ সাগরে ভাসবে বলে পরীর ডানায়
মালা গেঁথে উড়ে চলে জোসনা রাতে।
আমি যদি ভেসে চলি ফাগুন হাওয়ায়
হƒদয় আমার উঠবে জেগে গোলাপ কাঁটায়
এই আসরে থাকবে আমার প্রেমের ডালি
তারার হাঁটে থাকবো আমি তোমার আশায়।
আমি যদি উড়ে বেড়াই পাখির সাথে
ডানাবিহীন এই আমারে চিনবে তাতে
পাহাড় সাগর সবুজ বনের প্রান্ত ছেড়ে
ছুটবো তথায় অনন্ত এক প্রেমের টানে।
আমি যখন একলা বসি নদীর ধারে
উজান পথে বজরা চলে পাল উড়ায়ে
পাড় ভাঙাদের কান্না শুনি একাধারে
নীড় হারাদের স্বপ্ন বুনি নতুন পাড়ে।
আমি যখন কথা বলি নদীর সাথে
বুক চিরে সে দেখাতে চায় আপন হাতে
শরীরটা তার খাচ্ছে গিলে বোয়াল মাছে
মরা গাঙের দৃশ্য দেখায় সকাল সাঁঝে।
আমি যদি ঘুমিয়ে থাকি মাঠের শেষে
হিজল বনে ফুল বাগানে নরোম ঘাসে
ভ্রমর সখি গাইবে সেথায় প্রেমের গান
ফাগুন হাওয়া বইবে সেথায় অবশেষে।
আমি যদি বিদ্যালয়ের ছাত্র হই
পুস্তক হতো ভালো বন্ধু ভালো সই
সুদ আসলের ভ্রান্ত সকল অংক ছেড়ে
নিক্তি মাপের পড়া খুঁজে বিদ্যান হই।
আমি যদি ভালো হবার স্বপ্ন আঁকি
সহায় হবে সাথে থাকা সত্য সাকি
মহাকালের ভয়ে যখন হƒদয় কাঁদে
নরোম হবে জ্বলে থাকা কঠোর আঁখি।
আমি যদি খেয়া ঘাটে পরে আসি
বাজলো যখন পারাপারের শেষের বাঁশি
সাঁতার কাটা হোক না আমার কঠিন বোঝা
ওপাড়েতে থামবো আমি উজান চষি।
আমি যখন হেঁটে চলি গ্রাম নগরে
সত্য ন্যায়ের মানুষ খুঁজি লোকের ভীড়ে
শান্ত সুবোধ মানুষগুলো চুপসে থাকে
সত্যেরা সব পালাতে চায় স্বজন ছেড়ে।
আমি যখন শুনতে থাকি শিশুর আওয়াজ
সেই আওয়াজে বাজবে রণের কুচকাওয়াজ
পুব আকাশে জাগবে এবার নতুন ভোর
স্বপ্ন ভাঙার ফন্দিগুলো থামবে আজ।
পুব আকাশে জাগবে যখন নতুন ভোর
আলোর হাসি খেলবে তখন খুলে দোর
উঠবে জেগে ঘুম কাতুরে সকল চোখ
পালিয়ে যাবে মনের যত অন্ধ ঘোর।
Comments
Post a Comment